কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

এমন কিছু খাবার আছে এমন কিছু অভ্যাস আছে । যা আপনার কিডনি ভেতরে ভেতরে একদম নষ্ট করে দেবে, পচে যাবে আপনার কিডনি কিন্তু আপনি বুঝতে পারবেন না, যে আপনার কিডনি ভেতরে ভেতরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । কারণ কিডনি রোগ সব সময় নীরব ঘাতক । আপনার কিডনি একদম নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে । আপনার শরীরে উপসর্গ দেখা দেবে । কারণ প্রাথমিক যে উপসর্গগুলো দেখা দেয় তা বেশিরভাগ মানুষ ধরতে পারেন না । এজন্যই বন্ধু আপনাকে বলছি আজকের এই পোস্ট পড়ে এই সকল খাবার অভ্যাস একেবারেই বাদ দিয়ে দিন । যেসব খাবার অভ্যাস গুলো আপনার কিডনিকে ভেতরে ভেতরে একদম পচিয়ে ফেলবে, নষ্ট করে ফেলবে সেই সাথে আরও দশটি খাবারের নাম বলব যে দশটি খাবার আপনার কিডনিকে সব সময় ভালো রাখবে । একদম ঘরের খাবার শুধুমাত্র আমরা না জানার কারণে এবং একই খাবার ভুলভাবে খাবার আমাদের কিডনি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।

কিডনি রোগের ঔষধের নাম, কিডনি রোগের চিকিৎসা, কিডনি পরিষ্কার করে এই ৯ খাবার, কিডনি ভালো রাখার ব্যায়াম, কিডনি রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা, কিডনি কত পয়েন্ট, কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার, কিডনি রোগের খাবার, কিডনি রোগের ঔষধের নাম, কিডনি টেস্ট নাম লিস্ট, কিডনি রোগীর খাবার তালিকা, কিডনি রোগ কি ভাল হয়, কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা, কিডনি কত পয়েন্ট, কিডনি রোগী কি কি ফল খেতে পারবে, ক্রিয়েটিনিন কমানোর খাবার, কিডনি রোগের ঔষধের নাম, কিডনি কত পয়েন্ট, কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা, একটা কিডনি না থাকলে কি হয়, কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার, কিডনি রোগ কেন হয়, কিডনি রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা, কিডনি রোগের পরীক্ষা, কিডনি ফেইলিওর এর লক্ষণ, কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা, কিডনি রোগের খাবার, ক্রনিক কিডনি রোগের লক্ষণ, কিডনি কত পয়েন্ট, শিশুদের কিডনি রোগের লক্ষণ, কিডনি রোগের পরীক্ষা, কিডনি রোগের ভেষজ চিকিৎসা,



তাহলে চলুন বন্ধু খুব মনোযোগ দিয়ে জানতে থাকি যে কি করা যাবে কিডনি ভালো রাখতে আর কি কি কাজ কখনই করা যাবে না ।

কিডনি পরিষ্কার করে এই ৯ খাবার

কোন কোন খাবার কখনোই খাওয়া যাবে না । যে দশটি খাবার আপনি খাবেন কিডনি ভালো রাখতে তার মধ্যে হলঃ-

১। কাঁচা পেঁয়াজ খেতে হবে প্রতিদিন অন্তত একটি থেকে দুইটি মাঝারি আকৃতির । একটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য বলছি ছোটরাও খেতে পারেন তবে পরিমাণে কম । পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে যা রক্তের চর্বি দূর করে এবং কিডনিকে সুস্থ রাখে । এছাড়া পেঁয়াজের পটাশিয়াম প্রোটিন কিডনির জন্য বেশ উপকারী ।

২। কাচা রসুন এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি দেহকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি কিডনিকেও ভালো রাখে । এবং এটি রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে । এছাড়া রসুনে যা উপাদান রয়েছে তার শরীরের অত্যন্ত উপকারী। 

৩। আপেল রান্না করে মানে নিষিদ্ধ করে একদম ছোট শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে । 6 মাস পরবর্তী থেকে শুরু করে একদম বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন একটি করে আপেল খেতে পারেন । এতে করে আপনার কিডনি সবসময় সুস্থ থাকবে ।


৪। ডিমের সাদা অংশ কিডনির জন্য খুবই ভালো । প্রতিদিন একটি বা দুটি ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন । আপনার বয়স ওজন এবং উচ্চতা অনুযায়ী । এছাড়া একটি ডিম কুসুমসহ অবশ্যই খেতে পারেন । এতে করে আপনার দেহের কোন ক্ষতি হবে না ।

৫। দারুচিনি কিডনি ফাংশন এর উন্নতি ঘটায় । প্রতিদিন 1 ইঞ্চি পরিমাণ দারুচিনি খেলে আপনার কিডনি ভালো থাকবে । 

৬। চেরি ফল নিশ্চয় সকলেই চেনেন লাল চেরি এটি আপনার কিডনিকে সবসময়ই ভালো রাখার কাজ করবে । কিডনি ফাংশন এর উন্নতি ঘটাবে, এর মধ্যে কি ভিটামিন সি ভিটামিন কে এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে । তার শরীরে প্রবেশ করার পরে কিডনির জন্য কাজ করে ।

৭। মাছ সবসময় চেষ্টা করবেন যে দেশে আছেন সেই দেশের টাটকা দেশি মাছ খাওয়ার জন্য । বরফ দেওয়া বেশিদিন ফ্রীজে থাকে যে মাছগুলো এই মাছগুলো কখনোই দেহের জন্য ভালো নয় । আবার অনেকেই চাষের মাছ খেয়ে থাকেন । চাষ করার এমন কিছু পদ্ধতি রয়েছে যে মাছ বিষযুক্ত হয়ে যায় । এই ধরনের মাছগুলো দেহের জন্য একেবারেই ভালো নয় । এছাড়া মাছের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড কিডনির জন্য বেশ ভালো । এবং মাছের প্রোটিন দেহের জন্য স্বাস্থ্যকর ।

৮। বাঁধাকপিতে ভিটামিন-B6, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-K ফলিক এসিড রয়েছে  তা কিডনি ফাংশন এর উন্নতি ঘটায় । তবে এক্ষেত্রে বাঁধাকপি খুব করে রান্না করে নয় । বরং ভাপে সেদ্ধ করে অর্থাৎ স্ট্রিম করে খেতে হবে । এতেই বাঁধাকপির সম্পূর্ণ উপকার পাওয়া যাবে ।

৯। আপনি রসুন খাবেন কিন্তু কখনোই আপনি ভাজা রসুন বা তরকারিতে দেওয়া রসুন খেলে উপকার পাবেন না । এজন্য আপনাকে প্রতিদিন এক থেকে দুই কোয়া কাঁচা রসুন খেতে হবে । 


১০ । দারুচিনির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য । যদি আপনি রান্নায় গরম চিনির ব্যবহার করেন । তবে এই দারুচিনি আপনার দেহের কোন উপকার করবে না বরং দারুচিনি আপনি পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি খেতে পারেন  । অথবা সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি দারুচিনি গুঁড়ো করে অল্প পরিমাণ দুধের সাথে অথবা পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন ।

১১ । লাল ক্যাপসিকাম কিডনি সুস্থ রাখতে । কারণ এতে যে খাদ্যগুণ রয়েছে তা কিডনির জন্য খুবই উপকারী । এবং পাকা কলা যে যে গুণসম্পন্ন পটাশিয়াম রয়েছে তা কিডনির জন্য উপকারী । এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে । দিনে ন্যূনতম তিন লিটার পানি পানের চেষ্টা করবেন । 

এই যে খাবারের নাম গুলো বললাম এগুলো আপনি খাবেন কিডনি সুস্থ রাখতে । কিন্তু আপনার যদি কিডনি রোগ ধরা পড়ে তখন কিন্তু এই খাবারগুলো আপনার জন্য একই নিয়মে প্রযোজ্য নয় ।

কারণ আপনার কিডনি রোগ ধরা পড়লে আপনি তিন লিটার পানি পান করতে কখনোই পারবেন না । 

যেমন পারবেন না প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ খেতে কারণ মাছের যে প্রোটিন তখন আপনার কিডনির জন্য সেটি স্বাস্থ্যকর হবে না । তেমনি প্রতিটি খাবার যেমন কলার যে পটাশিয়াম একজন কিডনি রোগীর কলার এই পটাশিয়াম সহ্য করতে পারবেন না । 

যদি আপনার কিডনি রোগ না হয়ে থাকে । এখনো কিডনি সুস্থ থাকে তাহলে আজীবন কিডনিকে ভালো রাখতে এই খাবারগুলো খেতে থাকুন । কখনোই আপনার কিডনি রোগ না হয় । 

এবারে আমরা বলবো যে কোন খাবারগুলো খাওয়ার কারণে আপনি কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বা হতে পারেন  ভবিষ্যতে।  এবং কি কি বদ অভ্যাসের জন্য একজন মানুষের কিডনি রোগ হয় ।


যত স্বাস্থ্যকর খাবার ই হোক না কেন । অতিরিক্ত দেহের জন্য ভালো নয় । কিডনি সুস্থ রাখার জন্য একই কথাই বলতে হবে মাছের প্রোটিন শরীরের জন্য অর্থাৎ কিডনির জন্য উপকারী । কিন্তু আপনার দেহের ওজন অনুযায়ী ঠিক করতে হবে । আপনি প্রতিদিন কতটুকু মাছ খাবেন আপনার দেহের ওজন যদি 60 কেজি হয় । তাহলে আপনি প্রতিদিন 60 গ্রাম প্রোটিন খাবেন । আবার যদি আপনি মাংস খেতে চান তাহলে অবশ্যই চর্বিহীন মাংস খেতে হবে । লাল মাংস খাওয়া দেহের জন্য ক্ষতিকর হলেও আপনি সপ্তাহে একদিন চর্বিহীন লাল মাংস খেতে পারেন । যদি আপনার আগে থেকে কিডনি রোগ না থাকে।  এক্ষেত্রে আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হলে 85 গ্রাম এর ওপরে মাংস খাবেন না । যদি মুরগির মাংস হয় তাহলে 100 গ্রাম পরিমাণ খেতে পারেন।  এবং পটাশিয়াম অক্সাইড এবং ক্যালসিয়াম দেহের জন্য খুবই উপকারী । কিন্তু এই খাবারগুলি আপনার কিডনি রোগ অর্থাৎ কিডনিতে পাথর তৈরি করছে । 

বেশি পরিমাণ অক্সালেট খাওয়ার দেহের জন্য এবং কিডনির জন্য অতিরিক্ত ক্ষতিকর । খুব সাধারন একটি ফল কামরাঙ্গা কিন্তু এ কামরাঙ্গাতে এত পরিমান অক্সালেট রয়েছে । যে আপনার কিডনিকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দিতে পারে । 

তেমনি অতিরিক্ত অক্সালেট জাতীয় যে ধরনের সিম, করলা, এতে রয়েছে, অতিরিক্ত অক্সালেট আবার ছোলাতে রয়েছে অতিরিক্ত অক্সালেট । যারা কাঁচা ছোলা অঙ্কুরিত ছোলা খেতে পছন্দ করেন । তারা প্রতিদিন এক মুঠো পরিমাণের বেশি করে খাবেন না । কারণ এগুলো আপনার দেহের জন্য অতিরিক্ত খাওয়া ক্ষতিকর । 


কিডনি ধীরে ধীরে পচে যেতে পারে। নষ্ট হয়ে যেতে পারে ভিতরে এবং কিডনিতে পাথর জমতে পারে । পানির বোতলে কখনোই কোমল পানীয় অর্থাৎ বোতলজাত যেসব সফট ড্রিংস পাওয়া যায় সেসব কখনোই পান করবেন না । এটি কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর । 

লবণ দেহের জন্য উপকারী কিন্তু কখনোই দৈনিক 1 চা চামচের বেশি লবণ খাবেন না । যেকোনো ধরনের খাবারের সাথে তরকারির সাথে অথবা যে কোন ভাবেই আপনি লবণ খান না কেন প্রতিদিন যেন ১ চা চামচের বেশি না হয় । 

বাদাম দেহের জন্য উপকারী কিন্তু বাদাম আপনাকে সবসময় ভিজিয়ে খেতে হবে।  অন্তত ছয় থেকে সাত ঘন্টা পরে এই ভেজানো বাদাম আপনি খেতে পারবেন। যদিও বাদাম খাওয়ার নির্দিষ্ট মাপ রয়েছে সব ধরনের বাদাম মিলিয়ে এক মুঠো পরিমাণ খেতে পারবেন।  যে কোন বাদাম তিন থেকে চারটি বেশি নয়। এক্ষেত্রে চিনাবাদাম 10 থেকে 12 টি খেতে পারেন । কিন্তু কখনই ভাজা বাদাম বিশেষত লবণ দেওয়া ভাজা বাদাম কখনোই খাবেন না । এটি আপনার কিডনিকে একদম নষ্ট করে দেবে আপনি বুঝতে পারবেন না যে আপনার কিডনির ভেতরে কি অবস্থা হচ্ছে । 

অতিরিক্ত চা বা কফি পান করবেন না কফিতে অক্সালেট রয়েছে তা কিডনির জন্য ক্ষতিকর।  আবার অতিরিক্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ও কিডনির জন্য ক্ষতিকর।  এবং তন্দরি জাতীয় যে সমস্ত খাবার রয়েছে এগুলো আপনার কিডনির জন্য ক্ষতিকর । কখনোই এগুলো দীর্ঘমেয়াদে খাওয়া উচিত নয় । 


খারাপ অভ্যাসের মধ্যে যেগুলো আপনার কিডনিকে একদম নষ্ট করে দেবে । তার মধ্যে আছে এন্ডাসিট  গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ গুলো আমরা খেয়ে থাকি এই ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে খাওয়া এবং যেকোন ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে খাওয়া এগুলো ধীরে ধীরে কিডনিকে একদম নষ্ট করে দেয় । এছাড়া ধূমপান এবং মদ্যপান দেহের জন্য এবং কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর । এই ধরনের অভ্যাস গুলো বাদ দিতে হবে এবং দীর্ঘক্ষন প্রসাব চেপে রাখা এটি আপনার কিডনিকে নষ্ট করে দেবে । এই পোস্ট আপনাদের সারা জীবন কাজে লাগবে কিডনি সুস্থ রাখতে এবং নিজেকে সুস্থ রাখতে বন্ধু । সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন আর পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন যাতে প্রত্যেকেই সুস্থ থাকতে পারে তাদের কিডনি ভালো রাখতে পারে । ধন্যবাদ ।


Tag...
কিডনি রোগের ঔষধের নাম,কিডনি রোগের চিকিৎসা,কিডনি পরিষ্কার করে এই ৯ খাবার,কিডনি ভালো রাখার ব্যায়াম,কিডনি রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা,কিডনি কত পয়েন্ট,কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার,কিডনি রোগের খাবার,কিডনি রোগের ঔষধের নাম,কিডনি টেস্ট নাম লিস্ট,কিডনি রোগীর খাবার তালিকা,কিডনি রোগ কি ভাল হয়,কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা,কিডনি কত পয়েন্ট,কিডনিরোগী কি কি ফল খেতে পারবে,ক্রিয়েটিনিন কমানোর খাবার,কিডনি রোগের ঔষধের নাম,কিডনি কত পয়েন্ট,কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা,একটা কিডনি না থাকলে কি হয়,কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার,কিডনি রোগ কেন হয়,কিডনি রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা,কিডনি রোগের পরীক্ষা,কিডনি ফেইলিওর এর লক্ষণ,কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা,কিডনি রোগের খাবার,ক্রনিক কিডনি রোগের লক্ষণ,কিডনি কত পয়েন্ট,শিশুদের কিডনি রোগের লক্ষণ,কিডনি রোগের পরীক্ষা,কিডনি রোগের ভেষজ চিকিৎসা,

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন