আপাং গাছের উপকারিতা কি

 

আপাং গাছের উপকারিতা, আপাং গাছের উপকারিতা কি, আপাং গাছ ছবি, আপাং গাছের শিকড় দিয়ে বশীকরণ, আপাং গাছের ছবি, আপাং গাছের শিকড়, আপাং গাছের অন্য নাম, আপাং গাছের শিকড়ের উপকারিতা, আপাং গাছ কোথায় পাওয়া যায়, আপাং গাছ উপকারিতা, আপাং গাছ কাকে বলে, আপাং গাছের বৈজ্ঞানিক নাম, আপাং গাছ আপাং গাছ, আপাং গাছের উপকারিতা জানতে চাই, আপাং গাছের উপকারিতা ভিডিও, আপাং গাছের উপকার, রক্ত আপাং গাছের উপকারিতা, আপাং গাছের কি উপকার, আপাং গাছের মূলের উপকারিতা, আপাং গাছের পাতা, আপাং গাছের ঔষধি গুন, আপাং গাছের ওষুধ, আপাং গাছের ঔষধি গুনাগুন, আপাং গাছের কার্যকারিতা, আপাং গাছের কি গুনাগুন, আপাং গাছের কাজ, আপাং গাছের কি কাজ হয়, আপাং গাছের শিকড় খেলে কি হয়, আপাং গাছের গুনাগুন, আপাং গাছের গুনাগুন জানতে চাই, আপাং গাছের গুনাগুন কি, আপাং গাছের গুনাগুন বলুন, আপাং গাছের শিকড়ের গুনাগুন, আপাং গাছের ভেষজ গুন, লাল আপাং গাছ চেনার উপায়, আপাং গাছের ছবি দেখান, রক্ত আপাং গাছের ছবি, সাদা আপাং গাছের ছবি, আপাং গাছের টোটকা, আপাং গাছের পিকচার, আপাং গাছের ফলাফল, আপাং গাছের বশীকরণ, আপাং গাছের ব্যবহার, আপাং গাছের মূল কি কাজে লাগে, লাল আপাং গাছ, আপাং গাছের শিকড় কি কাজে লাগে,


আপাং গাছের অন্য নামঃ অপামার্গ (সংস্কৃত), লটজিলা (হিন্দি), বিলাইখাম্‌ছি ও উপল্যাংগা (বাংলা)।

উদ্ভিদের বর্ণনা: আপাং একটি বর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। স্থানভেদে ইহা ১–৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড শাখান্বিত। পাতা সরল, প্রতিমুখ, অনেকটা ডিম্বাকৃতির অথবা ইলিপ্‌টিক্যাল, ৩-৫ ইঞ্চি লম্বা, মঞ্জরী সরল স্পাইক, পুষ্প ক্ষুদ্র, সমাঙ্গ; মঞ্জরীপত্র ও পেরিয়েন্থ শুষ্ক শল্কপত্রের মত; পুংকেমর ৫টি, স্ত্রীকেশর ২টি, ফল নাটলেট, শক্ত ও পক্ষলযুক্ত, কাপড়ে বা জীবজন্তুর গায়ে আটকিয়ে যায়। গ্রীষ্মের শেষ দিকে ফল শুষ্ক হয় এবং মাটিতে পড়ে যায়। বীজ কালো ।

ব্যবহার্য অংশঃ মূল, কাণ্ড, পাতা ও বীজ অর্থাৎ সমস্ত উদ্ভিদ। 

সাধারণ গুণ: উষ্ণবীর্য, মূত্রকর; মল সংগ্রাহক, অর্শ, কফ ও হৃদ্‌রোগনাশক এবং পিপাসা নিবারক ।

ব্যবহার : আপাং-এর ক্বাথ (decoction) ১-২ আউন্স মাত্রায় দিনে তিনবার সেবন করলে মূত্রকষ্ট দূর হয় এবং প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব হয়। ইহা মৃদু জোলাপেরও কাজ করে থাকে। এছাড়াও এর ক্বাথ উদরাময়, আমাশয়, অতিরজঃ, অর্শ, বাত, অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রদাহ, চর্মরোগ প্রভৃতি রোগে ব্যবহৃত হয়। বৃহৎ মাত্রায় সেবন করলে প্রসব বেদনা ত্বরান্বিত হয়, তাই গর্ভপাত ঘটানোর জন্য অনেক সময় এর ব্যবহার হয়ে থাকে। 

আপাং-এর ছাই-এ প্রচুর পরিমাণপ টাশ আছে তাই এর ছাই অ্যান্টাসিড হিসেবে ব্যবহৃর্ত হয়। শূল বেদনায় আপাং-এর ছাই মধুর সাথে সেব্য। কাশি এবং হাঁপানিতেও ইহা ভাল কাজ করে থাকে। মূত্রবৃদ্ধি করে বলে.

শোথ রোগে এর বহুল ব্যবহার আছে। এক ছটাক আপাং চূর্ণ ১০ ছটাক পানিতে ১৫ মিনিট সিদ্ধ করলে যে ক্বাথ পাওয়া যায় তা থেকে – ছটাক হতে ১ ছটাক মাত্রায় দিনে তিনবার সেবন করলে প্রচুর প্রস্রাব হয় এবং শোেত রোগ কমে যায় ।

 আপাং-এর পুষ্প চূর্ণ চিনির সাথে খেলে পাগলা কুকুরের বিষ নষ্ট হয় সামান্য কারণেই যাদের বুক ধড়ফড়ানি শুরু হয় তারা যেন প্রত্যহ সকালে ঠাণ্ডা পানিসহ এক চা-চামচ আপাং-এর তাজা রস কিছুদিন নিয়মিত খান। তা হলে হৃদযন্ত্রটা সবল হবে।

যাদের ক্ষিধে হয় না, জোর করে খেলে হজম হয় না তাঁরা ৮ ভাগ আপাং-এর শিকড় এবং ১ ভাগ গোলমরিচ বেটে ছোট ছোট বড়ি তৈরি করবেন এবং বড়িগুলি ছায়াতে শুকিয়ে প্রত্যহ সকাল-বিকাল খাবারের পর পানিসহ একটি করে বড়ি খাবেন। এতে করে স্বাভাবিক ক্ষুধা হবে.

আপাং ও কাকজঙ্ঘার ক্বাথ সেবন করলে নিদ্রাহীনতা দূর হয়। আপাং এর মূল ২ তোলা এবং শ্বেত বেড়েলার মূলের ছাল ৭ তোলা একত্রে চূর্ণ বা মণ্ড করতে হবে। এর সাথে পৌন দুই সের পানি ও আড়াই পোয়া গরুর দুধ মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ৫ ছটাক ক্বাথ প্রস্তুত করতে হবে। এই ক্বাথ প্রত্যহ প্রাতে উন্মাদ রোগীকে সেবন করতে দিলে উন্মাদ রোগ আরোগ্য হয়। আপাং এর তাজা পাতা পিষ্ট করে বিষাক্ত কীট-পতঙ্গের দষ্ট স্থানে লেপন করলে বিষ নষ্ট হয়ে যায়।


আপাং-এর দেশী ব্যবহার

১। কাটা স্থানে আপাং পাতার রস দিলে সাথে সাথে রক্ত পড়া বন্ধ হয় ।

২। আপাং পাতা আতপ চালের সাথে বেটে ফোঁড়ার মুখ ছাড়া চারদিক ঘিরিয়া প্রলেপ দিলে ফোঁড়া সহজে ফেটে যায়।

৩। আপাং পাতা হুক্কার পানির সাথে বেটে পুরাতন ঘায়ে দিলে ঘা শীঘ্র আরোগ্য হয়।

৪। আপাং গাছের মূল সিকি তোলা পরিমাণ বেটে সেবন করলে কলেরার ভেদ বমি কমে যায়।

৫। আঘাত লেগে কোন স্থান থেতলিয়ে গেলে বা মচকিয়ে গেলে চালসহ আপাংগাছ বেটে প্রলেপ দিলে বিশেষ উপকার সাধিত হয় ।

৬। গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাতের সময় হলে আপাং-এর মূল গভিনীর কোমরে বেঁধে দিলে সহজে গর্ভপাত হয়। গর্ভপাতের সাথে সাথে মূলটি খুলে নিতে হয় নতুবা অধিক রক্তস্রাবের আশঙ্কা আছে।

৭। ঋতুস্রাব অতিরিক্ত হলে তোলা পরিমাণ আপাং গাছের শিকড় পানির সাথে বেটে সেবন করলে স্রাব ও বেদনা বন্ধ হয় ।

৮। ৪/৫টা গোল মরিচসহ সিকিতোলা পরিমাণ আপাং শিকড় প্রতিদিন সকালে কিছুদিনের জন্য খেলে গ্রহণী রোগ আরোগ্য হয় ।

৯। সিকি তোলা আপাং বীজ চাল ধোয়া পানির সাথে বেটে কিছুদিনের জন্য প্রত্যহ সকালে খেলে অর্শ রোগ আরোগ্য হয়।

১০। কানে কম শুনলে বা কান ভোঁ ভো করলে আপাং গাছের ছাই তিল তেলের সাথে মিশিয়ে ২/১ ফোটা করে কানে দিলে বিশেষ ফল পাওয়া যায়। 

১১। আপাং পাতা হুক্কার পানির সাথে বেটে প্রত্যহ ২/৩ বার প্রলেপ দিলে কুষ্ঠরোগ আরোগ্য হয়। 

১২। ন্যাবা বা জণ্ডিস হলে দেশীয় কবিরাজ আপাং-এর মালা পরান। তাঁরা আপাং কাণ্ড হতে তর্জনী আঙ্গুলের উপরের গিঠ সমান করে ১০০ খণ্ড করেন এবং সূতা দ্বারা খণ্ডগুলিকে একত্রে মালা গাঁথেন। শুনা যায় মালাটি মাথায় রাখলে তা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হতে থাকে এবং শরীর বেয়ে পায়ের দিকে মাটিতে পড়ে যায়। এতে নাকি জণ্ডিসও ভাল হয়ে যায়। বিষয়টি গবেষণার দাবী রাখে।

১৩। আপাং-এর মূল হাতে ছোঁয়া লাগিয়ে কিছুদূরে রাখলে যথার্থ তূলারাশির লোকের হাত আপনা-আপনি মূল পর্যন্ত চলে আসে। জানাযায় এটি প্রথমে রক্তে ক্রিয়া করে অর্থাৎ হাতের আংগুল হতে রক্তস্রোতের মধ্য দিয়ে একটি সুড়সুড়ি আস্তে আস্তে উপরে উঠে যায় এবং তার পরই হাতটি আস্তে আস্তে সামনে রাখা শিকড়ের দিকে আসতে থাকে।

হোমিওপ্যাথিতে আপাং

হোমিওপ্যাথিতে আপাং এখনও তেমনভাবে পরিচিতি লাভ করে নাই কারণ এটির যথার্থ প্রুভিং এখনও হয়নি। যাইহোক নিম্নলিখিত উপায়ে এর মাদার টিংচার প্রস্তুত করা হয়।


"তাজা মণ্ড ৩০০ গ্রাম

স্ট্রং অ্যালকোহল ৮২০ সি. সি. 

নির্দিষ্ট উপায়ে এ থেকে এক হাজার সি. সি. মাদারটিংচার পাওয়া যায় ।

হোমিওপ্যাথিতে আপাং-এর নিম্নক্রম ব্যবহৃত হয়। 


প্রাপ্তিস্থান : আপাং বাংলাদেশের সর্বত্রই পাওয়া যায় ।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন